fbpx

1300 997 775

.55

Elon musk net worth in taka – এলন মাস্কের সম্পদ—বাংলাদেশি টাকায় হিসাব বিশ্লেষণ

Elon musk net worth in taka: এলন মাস্কের সম্পদ—বাংলাদেশি টাকায় হিসাব বিশ্লেষণ

প্রযুক্তি জগতের এই শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তির মোট মূল্য প্রায় ২১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী, এই পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ২৩ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি। এই অঙ্কটি কল্পনার সীমানা পেরিয়ে যায় যখন আপনি বিবেচনা করেন যে বাংলাদেশের চলতি বাজেটের পরিমাণও এর সামনে নগণ্য মনে হয়।

এই অর্থের পরিমাণ বোঝার একটি কার্যকর উপায় হলো তুলনা করা। তাঁর এই তহবিল দিয়ে আপনি বাংলাদেশের সকল নাগরিককে প্রায় ১ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা করে দিতে পারবেন। অথবা, দেশের সবচেয়ে ব্যয়বহুল অবকাঠামো প্রকল্পগুলোর বেশ কয়েকটি একসাথে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে। তাঁর অর্থের মূল্য নির্ভর করে শেয়ার বাজারের ওঠানামার উপর, ফলে এই সংখ্যা দ্রুত পরিবর্তনশীল।

এই ধরনের আর্থিক শক্তি বিশ্লেষণ করার সময় প্রাথমিক উৎসের দিকে নজর দিতে হবে। তাঁর সম্পত্তির সিংহভাগ জড়িত আছে তাঁর প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত কোম্পানিগুলোর শেয়ারের মালিকানার সাথে। তাই, এই মূল্য কাগুজে সম্পদ, যা বাজারের বিশ্বাস ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার উপর গভীরভাবে নির্ভরশীল। সঠিক বর্তমান সংখ্যা জানতে বিশ্বস্ত আর্থিক সংবাদ মাধ্যম বা রিয়েল-টাইম বিলিয়নিয়ার ইনডেক্স চেক করা যেতে পারে।

বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী সম্পদের পরিমাণ

এই মুহূর্তের হিসাবে, উদ্যোক্তার মোট মূলধন প্রায় ২৬০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার

বর্তমান বিনিময় হার ১ মার্কিন ডলার = ১১৭ টাকা ধরে গণনা করলে, পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৩০,৪২০,০০০,০০০,০০০ টাকা। এটি বাংলাদেশের প্রস্তাবিত বাজেটের চেয়েও বহুগুণ বেশি।

গণনার পদ্ধতি ও নির্ভরযোগ্যতা

এই রূপান্তর সরাসরি বাজারের চলতি দর ব্যবহার করে। যাইহোক, শেয়ার বাজার ও মুদ্রার মান প্রতিদিন ওঠানামা করে। তাই এই সংখ্যা কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পরিবর্তিত হতে পারে।

সর্বশেষ তথ্য পেতে বিশ্বস্ত আর্থিক ওয়েবসাইট বা বাংলাদেশ ব্যাংকের অফিসিয়াল রেট চেক করুন। শেয়ারের দাম ও সম্পত্তির মূল্যায়ন নিয়মিত হালনাগাদ হয় বলে, রূপান্তরের সময় সর্বশেষ ডলারের রেট নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

বাংলাদেশের বাজেট ও বৃহৎ প্রকল্পের সাথে সম্পদের তুলনা

এই ব্যক্তির মোট মূলধন বাংলাদেশের বার্ষিক বাজেটের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশের সমান। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জন্য ৭,৯৭,০০০ কোটি টাকার বাজেটের বিপরীতে তার আর্থিক মূল্য প্রায় ৫,৩০,০০০ কোটি টাকা।

মেগা প্রকল্পের পুঁজির একটি দৃশ্য

পদ্মা সেতু নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৩০,১৯৩ কোটি টাকা। তার অর্থায়ন দিয়ে এমন ১৭টি সেতু তৈরি করা যেত। মেট্রোরেলের প্রথম পর্যায়ের খরচ ৩৩,০০০ কোটি টাকারও কম, অর্থাৎ এই তহবিল থেকে অনুরূপ তিনটি প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যয় ধরা হয়েছে ১,১৩,০০০ কোটি টাকা, যা তার সম্পত্তির এক-পঞ্চমাংশ মাত্র।

এই অর্থ দিয়ে দেশের সমগ্র বার্ষিক স্বাস্থ্য বাজেটের ১৫ গুণ বেশি বিনিয়োগ করা যাবে। শিক্ষা খাতের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থের চেয়ে এই পরিমাণ প্রায় ১২ গুণ বেশি। একটি মাত্র ব্যক্তির এই আর্থিক শক্তি রাষ্ট্রীয় অর্থনীতির মাপকাঠিতেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

এই বিশাল আর্থিক সক্ষমতার প্রেক্ষাপটে, ব্যক্তিগত উদ্যোগ কীভাবে বাজারের গতিপথ বদলে দিতে পারে তা নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়। কৌতূহলী পাঠকরা Elon Bet-এর মতো প্ল্যাটফর্মে গিয়ে বাজার গতিবিধি ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে আরও জানতে পারেন।

অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিশ্লেষণ

দেশের মোট দেশজ উৎপাদের (জিডিপি) ৪৭ লক্ষ কোটি টাকার সাথে তুলনা করলে এই পরিমাণ জিডিপির প্রায় ১১%। বৈদেশিক রিজার্ভের প্রায় সাড়ে পাঁচ গুণ। একটি কোম্পানির শেয়ার মালিকানার এই মূল্যমান একটি জাতীয় অর্থনীতির কেন্দ্রীয় স্তম্ভগুলোর সাথে সরাসরি তুলনীয় হয়ে ওঠে। এটি বেসরকারি খাতের পুঁজির কেন্দ্রীভবন এবং বৈশ্বিক অর্থবিত্তের বিন্যাস সম্পর্কে গভীর চিন্তার উদ্রেক করে।

প্রশ্ন-উত্তর:

এলন মাস্কের মোট সম্পদের পরিমাণ বাংলাদেশি টাকায় কত?

এলন মাস্কের সম্পদ মূলত টেসলা ও স্পেসএক্স-এর শেয়ারের মূল্যের সাথে জড়িত, যা প্রায়শই ওঠানামা করে। ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে, তার সম্পদের মূল্য প্রায় ২০০ থেকে ২২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার হিসেবে অনুমান করা হয়। বর্তমান বিনিময় হার (প্রায় ১ মার্কিন ডলার = ১১৭ বাংলাদেশি টাকা) অনুযায়ী, এটি প্রায় ২৩,৪০০,০০০,০০০,০০০ থেকে ২৫,৭৪০,০০০,০০০,০০০ বাংলাদেশি টাকা। সহজভাবে বলতে গেলে, এটি ২৩ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকারও বেশি। তবে এটি একটি আনুমানিক হিসাব; শেয়ার বাজারের পরিবর্তন ও মুদ্রার বিনিময় হার প্রতিদিন এই সংখ্যাটি বদলে দেয়।

বাংলাদেশের বার্ষিক বাজেটের সাথে এলন মাস্কের সম্পদের তুলনা করলে কেমন হয়?

২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের বার্ষিক বাজেটের আকার ছিল প্রায় ৭,৯৭,০০০ কোটি টাকা। অন্যদিকে, এলন মাস্কের সম্পদ (প্রায় ২৩৪ লাখ কোটি টাকা) বাংলাদেশের পুরো বার্ষিক বাজেটের চেয়ে প্রায় ২৯ গুণ বেশি। তার ব্যক্তিগত সম্পদ দিয়ে বাংলাদেশের বর্তমান বাজেট প্রায় ২৯ বছর চালানো যাবে। এই তুলনা থেকে তার সম্পদের বিশাল পরিমাণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়।

এলন মাস্কের সম্পদ কীভাবে এত দ্রুত বাড়ে বা কমে?

মাস্কের সম্পদের প্রধান উৎস হল টেসলা এবং স্পেসএক্স কোম্পানির শেয়ার। এই কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দাম বাজারের মনোভাব, কোম্পানির আয়ের প্রতিবেদন, নতুন উদ্ভাবন বা সরকারি নীতির উপর নির্ভর করে প্রতিদিন পরিবর্তিত হয়। উদাহরণস্বরূপ, টেসলার কোনো নতুন মডেল প্রকাশ বা স্পেসএক্সের রকেট উৎক্ষেপণ সফল হলে শেয়ারের দাম বাড়তে পারে। আবার, তৃতীয় প্রান্তিকে টেসলার মুনাফা আশানুরূপ না হলে বা মাস্ক কোনো বিতর্কিত মন্তব্য করলে শেয়ারের দাম নেমেও যেতে পারে। যেহেতু তার বেশিরভাগ সম্পদই শেয়ারে আবদ্ধ, তাই এই দামের উঠানামা সরাসরি তার মোট সম্পদের মূল্য কয়েক ঘণ্টা বা দিনের মধ্যে কয়েক বিলিয়ন ডলার পরিবর্তন করে দেয়।

বাংলাদেশের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তির সম্পদের সাথে এলন মাস্কের সম্পদের পার্থক্য কতটা?

বাংলাদেশের শীর্ষ ধনী ব্যক্তিদের সম্পদ সাধারণত কয়েক বিলিয়ন ডলারের মধ্যে সীমাবদ্ধ। উদাহরণ হিসেবে, দেশের অন্যতম শীর্ষ ধনী ব্যবসায়ীর সম্পদ ২-৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ধরা যেতে পারে, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ২৩,৪০০ কোটি থেকে ৩৫,১০০ কোটি টাকা। এলন মাস্কের সম্পদ প্রায় ২০০ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ, মাস্কের সম্পদ বাংলাদেশের শীর্ষ ধনী ব্যক্তির সম্পদের চেয়ে প্রায় ১০০ গুণেরও বেশি বড়। এই ব্যবধানটি বিশ্বব্যাপী প্রযুক্তি খাতের বিশাল প্রভাব এবং বৈশ্বিক বাজারে এর মূল্যায়ন কতটা হতে পারে, তার একটি উদাহরণ।

এলন মাস্কের সম্পদ যদি নগদ টাকা হত, তবে সেটা বাংলাদেশে কী করতে পারত?

এলন মাস্কের সম্পদ যদি নগদ অর্থ হত এবং তা বাংলাদেশে বিনিয়োগ করা হত, তবে তা দেশের উন্নয়নে যুগান্তকারী প্রভাব ফেলতে পারত। এই অর্থ দিয়ে পদ্মা সেতুর মতো প্রায় ৩০০টি মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করা যেত। অথবা, পুরো দেশের জন্য এক বছর ধরে চালু থাকা প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা খাতের বাজেট প্রায় ৪০ বছর ধরে দেওয়া যেত। এটি দেশের সকল বৈদ্যুতিক গ্রিডের আধুনিকীকরণ বা সারাদেশে দ্রুতগতির রেল নেটওয়ার্ক নির্মাণের জন্যেও যথেষ্ট হবে। তবে এটি একটি তাত্ত্বিক উদাহরণ; বাস্তবে এই পরিমাণ অর্থ একটি অর্থনীতিতে প্রবেশ করলে মুদ্রাস্ফীতি ও অন্যান্য জটিল অর্থনৈতিক প্রভাব দেখা দিতে পারে।

এলন মাস্কের সম্পদের বর্তমান মূল্য বাংলাদেশি টাকায় কত?

এলন মাস্কের সম্পদ মূলত টেসলা ও স্পেসএক্স-এর শেয়ারের মূল্যের সাথে জড়িত, যা প্রতিদিন ওঠানামা করে। সর্বশেষ হালনাগাদ অনুযায়ী, তার সম্পদের পরিমাণ প্রায় ২২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এই পরিমাণ বাংলাদেশি টাকায় রূপান্তর করলে দাঁড়ায় প্রায় ২৪,২০,০০০ কোটি টাকা (বা ২৪.২ লক্ষ কোটি টাকা)। এই হিসাব করা হয়েছে ১ মার্কিন ডলার = ১১০ টাকা (আনুমানিক) ধরে। তবে শেয়ার বাজারের দাম পরিবর্তনের সাথে সাথে এই সংখ্যাটিও প্রতিনিয়ত বদলায়।

রিভিউ

চৈতি

এমন অঙ্ক দেখে মাথা ঘুরে যায়। আমার মতো সাধারণ মানুষের কাছে এই পরিমাণ টাকা কল্পনারও বাইরে। মাসিক বেতন থেকে বাচ্চার পড়ালেখা, বাড়ি ভাড়ার হিসাবেই জীবন কেটে যায়। আর এই একজন মানুষের সম্পদ এত বাংলাদেশি টাকা যে গুনে শেষ করা যাবে না। নিজেকে একটু হাসি পায় — আমরা যেখানে টাকার অঙ্কে জীবন কাটাই, সেখানে পৃথিবীর কারো কাছে সম্পদ শুধু সংখ্যা। সত্যি বলতে, এই তুলনা আমার দৈনন্দিন সংগ্রামের পাশে অবাস্তব লাগে। তবুও কৌতূহল হয়, এই টাকা দিয়ে আমাদের দেশের কত সমস্যার সমাধান হতে পারত!

RongilaBohu

এই অংকের টাকা দেখে তোমাদের কী মনে পড়ে না? আমাদের দেশের একজন মানুষের গড় আয়ু পর্যন্ত কাজ করলে যে টাকা কামায়, এই একজন মানুষের সম্পত্তির সামনে তা যেন ধুলো! তোমরা যারা এই সংখ্যাগুলো দেখে হা-হা করে মজা নিচ্ছ, তারা কখনো ভেবেছ কীভাবে এই পৃথিবীর সম্পদ এভাবে কয়েকজনের হাতে কুক্ষিগত হয়ে থাকে? আর আমরা গরীব দেশের মানুষরা শুধু হিসাব করে যাই?

রিয়াদ চৌধুরী

আপনি এলন মাস্কের টাকার হিসাব বাঙালির বুঝার মতো করে দিতে পারলেন না? শুধু সংখ্যা লিখে লাভ কী? এত টাকা বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কত বড়, সেটা একটা উদাহরণ দিলেই হতো। যেমন, এই অর্থ দিয়ে কয়টি পদ্মা সেতু বানানো যেত, বা দেশের কত দিনের জ্বালানি চাহিদা মেটানো যেত। আপনি কি নিজেও বুঝেন এই অঙ্কের অর্থ? নাকি শুধু কপি-পেস্ট করলেন?

অর্ণব

এলন মাস্কের সম্পদের যে অঙ্কটা টাকায় বের করা হয়, সেটা দেখলে মনে হয় যেন অন্য কোনো গ্রহের গল্প শুনছি। আমাদের দিন কাটে টাকার অঙ্কে, ওর দিন কাটে গ্রহের অঙ্কে। একজনের পকেটে যত টাকা, আমাদের পুরো দেশের বাজেটের চেয়েও কয়েক গুণ বেশি। এটা কোনো সাফল্যের গল্প নয়, এটা তো একটা প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দেয়। কতজনের কত জীবন বদলে যেত এই টাকায়? কত হাসপাতাল, কত স্কুল, কত সেতু বানানো যেত? কিন্তু সেসব তো হয় না। ওই টাকা দিয়ে আরও রকেট উড়ে, মঙ্গল গ্রহে বসতি শুরু হয়। আমরা আর আমাদের সংসার চালানোর হিসাব নিয়ে বসে থাকি। এই যে আকাশ-ছোঁয়া ফারাক, এটাই কি সময়ের সবচেয়ে বড় বেদনা নয়? সংখ্যাগুলো যখন এত বড় হয়ে যায়, তখন সেগুলো আর সংখ্যা থাকে না, হয়ে যায় এক ধরনের নীরব অভিশাপ।